Awin
সোমবার দুপুরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানসংলগ্ন শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সামনে এক বিফ্রিংয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান বলেন, ‘ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ইজতেমার কার্যক্রম চলছে। প্রত্যেকটি মানুষের ভেতর নিরাপত্তা বোধ জাগ্রত আছে। অত্যন্ত সুন্দরভাবে ইজতেমা উদযাপিত হচ্ছে। শনিবার বৃষ্টি হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে সরকার ইজতেমা এক দিন পিছিয়েছে। এতে আগামীকাল সকাল বেলা দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এ মোনাজাতের জন্য নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা আগের আখেরি মোনাজাতের মতোই নেওয়া হয়েছে।’
অর্থাৎ সোমবার দিবাগত মধ্যরাত হতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জয়দেবপুর চান্দনা চৌরাস্তার ভোগড়া বাইপাস, টঙ্গী ব্রিজ, আশুলিয়া সড়কের কামারপাড়া ব্রিজ ও টঙ্গী-নরসিংদী সড়কের মীরেরবাজার এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে সব ধরনের যানবাহন টঙ্গীতে প্রবেশ বন্ধ রাখা হবে। ইজতেমা শেষে মুসল্লিদের যাওয়ার সময়ও একই ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি নাগরিক ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করবেন, এ আশা প্রকাশ করেন পুলিশ কমিশনার।
উল্লেখ, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাবলিগ জামাতের ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা। গত ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ইজতেমার কার্যক্রম পরিচালনা করেন মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীগণ। ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় তাদের বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত। পরে রোববার থেকে শুরু হয়েছে সা’দ অনুসারীদের ইজতেমার কার্যক্রম।
সুত্র : রাইজিংবিডি
]]>আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফ ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য সমবেত মুসল্লিরা দুই হাত তুলে মোনাজাত করেন। মোনাজাতের সময় ইজতেমা ময়দান ও আশপাশ এলাকা থেকে ক্ষণে ক্ষণে ভেসে আসে ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ গগণ বিদারী ধ্বনি।
সকাল ১০টা ৪২ মিনিটের দিকে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের শীর্ষ স্থানীয় মুরব্বি বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ জোবায়ের মোনাজাত শুরু করেন। চলে বেলা ১১টা ৬ মিনিট পর্যন্ত। ২৪ মিনিট আরবি ও বাংলা ভাষায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে প্রথম ১৩ মিনিট আরবিতে এবং শেষ ১১ মিনিট বাংলায় দোয়া পরিচালনা করেন তিনি। মোনজাতের আগে অনুষ্ঠিত হয় হেদায়াতি বয়ান।
এর আগে সকালে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেওয়া এবং মোনাজাতে শরিক হতে আসা লাখ লাখ মুসল্লি প্রতীক্ষায় থাকেন মোনাজাতের জন্য। মোনাজাতের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলে হঠাৎ বিশ্ব ইজতেমাস্থলের জনসমুদ্রে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। যে যেখানে ছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে হাত তোলেন আল্লাহর দরবারে। মোনাজাত চলাকালে অনেকে কান্নায় বুক ভাসান।
মোনাজাত শুরুর আগে ইজতেমা ময়দানের চারদিক থেকে লাখ লাখ মুসল্লি হেঁটেই টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমাস্থলে পৌঁছেন। সকাল ৯টার আগেই ইজতেমা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হলে মুসল্লিরা মাঠের আশপাশের রাস্তা, অলি-গলি, বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। অনেক মানুষ কামারপাড়া সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পুরানো খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন সিট বিছিয়ে অবস্থান নেন। অনেকে ময়দানের পার্শ্ববর্তী বাসা-বাড়ি-কলকারখানা-অফিস, যানবাহনের ছাদে ও তুরাগ নদেতে নৌকায় অবস্থান নেন। ইজতেমাস্থলের চারপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যে দিকেই চোখ যায় সে দিকেই শুধু টুপি-পাঞ্জাবি পড়া মানুষ আর মানুষ।
এদিকে, ইজতেমা এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও বিভিন্ন দালানের ছাদে বসে নারী মুসল্লিরা ও আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন।
আগামী বছরের ইজতেমা : আগামী বছর বিশ্ব ইজতেমা ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি এবং ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে বলে মোনাজাত শেষে মুরব্বিরা মাইকে ঘোষণা দেন।
১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি সা’দপন্থিদের ইজতেমা : আজ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো মাওলানা জুবায়ের অনুসারীদের বিশ্ব ইজতেমা। মোনাজাত শেষে জোবায়ের অনুসারীগণ ময়দান ছেড়ে চলে গেলে রোববার থেকে পরের দুই দিন (১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি) মাওলানা সা’দ অনুসারীদের পরিচালনায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার তাদের আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এ বছরের চার দিনের বিশ্ব ইজতেমা।
সুত্র : রাইজিংবিডি
]]>