Awin
জাপানি ঐতিহ্য অনুযায়ী, নতুন সম্রাটের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন যুগ শুর হয় এবং এর একটি নামকরণ করা হয়।
জাপানের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদসচিব ইয়োসিহিদে সুগা গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, নতুন যুগের নামের ব্যাখ্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।
আগামী ৩০ এপ্রিল জাপানের বর্তমান সম্রাট আকিহিতোর ঐতিহাসিক সিংহাসন ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশটির বর্তমান যুগ ‘হেইসেই’ শেষ হবে, যার অর্থ হচ্ছে ‘শান্তি অর্জন’। এর পরের দিন থেকে নতুন যুগ কার্যকর হবে। ওই দিন নতুন সম্রাটের দায়িত্ব নেবেন আকিহিতোর ছেলে নারুহিতো। জাপানে গত ২০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সম্রাট পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।
নতুন যুগের নামটি ‘রেই’ ও ‘ওয়া’ নামের দুটি পৃথক শব্দ যোগ করে। রেই অর্থ হচ্ছে ‘শৃঙ্খলা’ এবং ওয়া অর্থ হচ্ছে শান্ত বা ঐক্য। জাপান পাশ্চাত্যের ক্যালেন্ডারের পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে এই রাজকীয় যুগের নামগুলোও।
নামকরণ প্রসঙ্গে জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে তাঁর ভাষণে বলেছেন, এই প্রথম জাপানে রাজকীয় যুগের নামকরণ করা হয়েছে চীনা নামের পরিবর্তে জাপানের প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ ‘ম্যানিয়োসু’ থেকে নেওয়া শব্দযুগল দিয়ে। আর ম্যানিয়োসু জাপানের গভীর জনসংস্কৃতি ও দীর্ঘ ঐহিত্য ধারণ করে আছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতি বড় একটি মোড় পরিবর্তন মোকাবেলা করছে। এর পরও বিশাল জাপানি মূল্যবোধ হারিয়ে যাওয়া উচিত না।’
উল্লেখ্য, জাপানের আধুনিক ইতিহাসে চারটি যুগ রয়েছে। সম্রাট আকিহিতোর বর্তমান যুগ হেইসেইয়ের অর্থ হচ্ছে ‘শান্তি অর্জন’। এর আগের যুগ ছিল শোওয়া যুগ (১৯২৬-১৯৮৯), যার অর্থ হচ্ছে ‘আলোকিত ঐক্য’। তার আগের যুগ ছিল তাইসো যুগ (১৯১২-১৯২৬), যার অর্থ হচ্ছে ‘মহান ন্যায়পরায়ণ’। আর আধুনিক ইতিহাসের প্রথম যুগটির নাম ছিল মেইজি যুগ (১৮৬৯-১৯১২), যার অর্থ হচ্ছে ‘আলোকিত শাসন’।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে জাপান সরকার ঘোষণা করে যে বর্তমান সম্রাট ৮৫ বছর বয়স্ক আকিহিতো শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ জন্য ২০১৯ সালের এপ্রিলে সিংহাসন ত্যাগ করবেন তিনি। আর নতুন সম্রাট হবেন যুবরাজ নারুহিতো।
সূত্র : বিবিসি
]]>মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।
সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘৬ হাজার ২৭৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মঙ্গলবার একনেকে ৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩ হাজার ৩১৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে ২ হাজার ৯৬২ কোটি ৩২ লাখ টাকা।’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় জাপানিজ ও স্থানীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে শিল্পোৎপাদনের মাধ্যমে রফতানি আয় বৃদ্ধি এবং বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
প্রকল্প ব্যয়ের ২ হাজার ৫৮২ কোটি ১৮ লাখ টাকার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে সংস্থান করা হবে ৪৫৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকা ২ হাজার ১২৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার বৈদেশিক সহায়তা দেবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার ২০১৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালের জুনে মোট ৭৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি সরকারিভাবে এবং অবশিষ্ট ২৩টি বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো-তাঁতীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন প্রকল্প, এর খরচ ধরা হয়েছে ১৫৮ কোটি টাকা। কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি টাকা। জয়পুরহাট জেলায় তুলশী গঙ্গা, ছোট যমুনা, চিড়ি ও হারাবতী নদি পুনঃখনন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১২৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়কে অনুর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্পে ব্যয় হবে ৮৮০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
এছাড়া সমগ্র দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২২৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল প্রণয়নে খরচ ধরা হয়েছে ১৬৪ কোটি টাকা।
সুত্র : বাসস
]]>