Awin
পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ও প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাইং, বৈসুক, বিষু, বিহু । মুলত আগামী ১২, ১৩ এবং ১৪ এপ্রিল এ তিন দিনব্যাপী মুল উৎসব পালন করা হলেও এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসুচী পালন করে। যার মধ্যে রয়েছে চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠের আয়োজন ছাড়াও রাঙামাটি স্টেডিয়ামে আদিবাসী জুম পিঠা, পোশাক,বই, আলোক চিত্র প্রদর্শনী আদিবাসী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনূষ্ঠান। বলিখেলা নাদেং খেলা, ঘিলা খেলা, পুত্তি খেলা, গুদু খেলা, বয়োজ্যেষ্ঠদের সন্মাননা ও আলোচনা সভা রযেছে।
রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইনস্টিটিউট:
রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী ইনস্টিটিউট ৪ দিনব্যাপী বিজু, সাংগ্রাই বৈসুক বিষু মেলার আয়োজন করেছে এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রিয়াদ মেহমুদ এমফডব্লিউসি, পিএসসি এবং জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী ইনষ্টিটিউটের মেলা ২ এপ্রিল থেকে ৫এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
এতে প্রথমদিন আলোচনা সভা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দ্বিতীয়দিন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, কবিতা পাঠ, সন্ধ্যায় ৩ জেলার শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, তৃতীয়দিন বিকাল ৪টায় ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি ও বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতিযোগিতা, নাটক মঞ্চায়ন ও রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী ইনস্টিটিউট শিল্পীদের পরিবেশনায় ওপেন কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। চতুর্থদিন ঐতিহ্যবাহী পাচন রান্না, বিভিন্ন খেলাধুলা ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইনস্টিটিউটের পরিচালক রনেল চাকমা জানান, প্রতি বছরের মত এবছরও ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী ইনস্টিটিউট মেলার আয়োজন করেছে। মুলত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টীর শিল্প ও সংস্কৃতিকে তোলে ধরতে এ মেলার আয়োজন।
জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল জাক: এরপর জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল (জাক) এর উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী জুম সংস্কৃতি মেলা ৬ এপ্রিল থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। জুম সংস্কৃতি মেলার উদ্বোধন করবেন সঙ্গীত শিল্পী রনজিত দেওয়ান এতে প্রধান অতিথি থাকবেন দেশের বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনেতা মামুনুর রশীদ। সর্বশেষ ২০১৫ সনে জাক আদিবাসী মেলা করেছিল, এবার চার বছর পর আবার জুম সংস্কৃতি মেলা করতে যাচ্ছে জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল জাক।
জাক এর আহবায়ক শিশির চাকমা জানান, পার্বত্য এলাকার ১১টি জনগোষ্ঠীর মাঝে মেল বন্ধন সৃষ্টির জন্য মেলার আয়োজন, প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এবার ষ্টলগুলোতে জুম চাষ এর উপর গুরুত্বরোপ করা হবে, পাহাড়ের মানুষ জুম চাষের উপর নির্ভরশীল হলেও অনেক কিছু হারিয়ে যাচ্ছে সে সব অনেক কিছু হারিয়ে যাচ্ছে আমরা চাচ্ছি মেলায় এবার বিভিন্ন ফসলের বীজগুলো প্রর্দশন করতে।
বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষূ, বিহু সাংক্রান উদযাপন কমিটি: “জুম্ম সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও অধিকার নিশ্চিতকরণে ঐক্যবদ্ধ হোন” এ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মত এবারো র্যালি, আলোচনা সভা, খেলাধুলা, ফুল বাসানোসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষূ, বিহু সাংক্রান উদযাপন কমিটি। ৯ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে নানা অনুষ্ঠানমালা।
প্রথমদিন ৯ এপ্রিল সকাল ৯টায় রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধি প্রিয় ওরফে সন্তু লারমা। এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন সাবেক সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার।ওইদিন বিকেল ৩টায় মারী স্টেডিয়ামে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুুষ্ঠিত হবে।
১০ এপ্রিল বিকেলে চিং হ্লা মারী স্টেডিয়ামে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ১১ এপ্রিল একই স্থানে সকালে জুম্ম খেলাধুলা বিকেলে বলিখেলা এবং ১২ এপ্রিল রাজবন বিহার পুর্বঘাট সকাল ৬টায় ফুল ভাসানো হবে।
বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষূ, বিহু সাংক্রান উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি চাকমা জানান, প্রতি বছরের মত এবছরও আমরা উৎসব পালন করব। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে সরকারের কাছে আমরা সব ধরণের নিরাপত্তা প্রদানের দাবি করছি।
মুলত বৈসাবি উৎসবের মধ্য দিয়ে পাহাড়ীরা পুরানো বছরকে বিদায় জানায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। সবার কামনা থাকে পুরানো বছরের সকল গ্লানি, ব্যর্থতা, হিংসা, বিদ্বেষ মুছে যাক নতুন বছর ভালোবাসা, সাফল্য আর সম্প্রীতির হোক।
সুত্র : বাসস
]]>কথিত আছে উপজাতি পুরুষরা কম পরিশ্রমী। জীবিকা নির্বাহের জন্য এখনো পাহাড়ী নারীরাই তাদের সংসারের হাল ধরে টিকিয়ে রেখেছেন।
একজন পাহাড়ী নারী দিনের শুরুতে স্বামী সন্তানকে সামলিয়ে বাগানে কাজের জন্য চলে যান উঁচু উঁচু পাহাড়ের জুম ক্ষেতে। সারাদিন কাজ করে পাহাড়ী তরি-তরকারী নিয়ে বিকেলে বাড়িতে পৌঁছে রান্নাবান্নার কাজ সারেন। এভাবেই প্রতিদিনকার জীবনকে মানিয়ে নিয়েছেন পাহাড়ে বসবাসরত উপজাতি নারীরা।
রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পাহাড়ে ঘুরে দেখা গেছে, রাঙ্গামাটি, বিলাইছড়ি উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে উপজাতি নারীরা পুরুষদের মত জুম ক্ষেতে কাজ করছে। জুমে বিভিন্ন সবজি ও ধান চারা রোপণ থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে থাকেন তারা। একেবারে পুরুষের মতোই একটি থামি ও ব্রাউজ পরে জুমের ধান আহরণ করে। যদি শিশু সন্তান থাকে; তাহলে শিশুটিকে কাপড় মুড়িয়ে বুকের সাথে বেঁধে নিয়ে জুমের পরিচর্যা করতে থাকেন।
বিশেষ করে বিলাইছড়ি উপজেলার ওরাছড়ি পাড়া, ফারুয়া ইউনিয়নে, মুঈদুছড়া, তাংখুতাং, শুক্কুরছড়ি, গবইছড়ি ও পানছড়িসহ বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকায় প্রায় ৬ শতাধিক উপজাতি নারী পুরুষদের মতোই জুমে নেমে কাজ করতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, এখান পাহাড়ের উপজাতি নারীরা শুধু মাত্র সন্তান প্রসবের কয়েক দিন বিশ্রামে থাকেন। বাকি সবগুলো দিন সময় তারা পরিশ্রম করেন।
কয়েকজন জুমিয়া তরুণী ও তাদের অভিবাবকের সাথে কথা বললে তারা জানায়, কাজ করতে তাদের কোনো সমস্যা নেই, জুমে নেমে ধান কেটে আহরণ করতে দীর্ঘসময় পাহাড়ের গায়ে থাকতে কষ্ট হলেও এতে তাদের আপত্তি নেই। সংসারের চাহিদা মেটাতে জুমে মা-বাবা, স্বামী-পুত্রের কাজে সহযোগিতা করতে তারা কাজ করছেন। পুরুষরা যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সন্তানরা যাতে লেখাপড়া করার সুযোগ পায়, সে জন্যই উপজাতি নারীরা জুমে চাষাবাদের মতো কষ্টকর কাজ করছে।
বিশেষ করে জুম মৌসুমে কাজ করতে তাদের ভালো লাগে। নিজেদের বা বর্গা পাহাড়ে চাষাবাদ ও জুমের ধানসহ সবজি আহরণ করে তারা আনন্দ পায়। পাশাপাশি তাদের বাড়তি আয় হয় এবং তা সংসারের উপকারে আসে বলে জানিয়েছেন ফারুয়া ইউনিয়নের জুমিয়া কৃষাণী মানুপ্রু মারমা, ওয়াংসাপ্র মারমা এবং সাংখিমা মারমা।
সুত্র : বাসস
]]>