Awin
এখন কেমন আছে বঙ্গবন্ধুর বত্রিশ নম্বর বাড়িটি/এখন কোথায় আছে বঙ্গবন্ধুর কালো ফ্রেমের চশমাটি/এখন কোথায় আছে বঙ্গবন্ধুর সেই ইজি চেয়ারটি/এখন কোথায় আছে শেখ রাসেলের সেই ছবিটি- এমন কথায় গানটির রেকর্ডিং হয় গত (শনিবার) ডি স্টেশনে।
গান প্রসঙ্গে সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান কবিতা, চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে। এখন নতুন প্রজন্ম অনেক বেশি এগিয়ে। সুজন হাজংয়ের গানের কথা খুব চমৎকার। মা, মাটি এবং দেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ আজীবন মনে রাখবে বাঙালি। এই গানের মধ্য দিয়ে ব্যাপারটা প্রকাশ পেয়েছে।
গান প্রসঙ্গে গীতিকার সুজন হাজং বলেন, বঙ্গবন্ধু মৃত্যুঞ্জয়ী। বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যাবে না। আমি এই গানে বঙ্গবন্ধুর বত্রিশ নম্বর বাড়ি, তাঁর কালো ফ্রেমের চশমা, তাঁর সেই ইজি চেয়ারটি এবং শেখ রাসেলের সেই দুর্লভ ছবির কথা উপস্থাপন করেছি যেন নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর সঠিক ইতিহাস জানতে কিংবা পড়তে আরো বেশি আগ্রহী হয়।
সুজন হাজং জানান, গানটি ‘বঙ্গবন্ধু তুমি স্বপ্ন বাঙালির’ অ্যালবামে সংযোজন করা হবে। এ অ্যালবামে আরো কণ্ঠ দিচ্ছেন ফাহমিদা নবী, নচিকেতা চক্রবর্তী ও শুভমিতা (ভারত), আশরা কুনওয়ার (নেপাল), সাংগে হ্লাদেন শেরিং (ভুটান), ডেভিড (শ্রীলঙ্কা) এবং শালাবি (মালদ্বীপ)। পুরো অ্যালবামের গানগুলো লিখেছেন কবি সুজন হাজং।
সুত্র : একুশে টেলিভিশন
]]>রোববার সকাল ৭টায় রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, আবু সাঈদ আল-মাহমুদ স্বপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী বছর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী। ব্যপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। দেশের রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাজনৈতি নেতাদের বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে আমন্ত্রন জানানো হবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাবো। ‘
প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
পরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে সকাল ৬টা থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে জমায়েত হতে থাকে।
জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে ডিএমপির একটি প্রতিনিধি দল জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সুত্র : রাইজিংবিডি
]]>ছাত্রজীবন থেকেই মাটি আর মানুষের জন্য নিবেদিত ছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার ভাগীরথি তীরের দুরন্ত কিশোর খোকা। কর্মজীবী বাবা শেখ লুৎফর রহমান ও গৃহিনী মা সায়েরা খাতুনের আদরের এই সন্তান শেখ মুজিবুর রহমান সময়ের পরিক্রমায় হয়ে ওঠেন কোটি বাঙালির প্রিয় মুজিব ভাই।
৪৭-এর ভারত ভাগের পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শের-ই বাংলা একে ফজলুল হকসহ বরেণ্য সব নেতাদের সান্নিধ্যে শেখ মুজিব ছাত্র নেতা থেকে হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর রাজনীতিবীদ। প্রথমে ছাত্রলীগ ও পরে আওয়ামী লীগ, দূরদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সাংগঠনিক ভিত্তি গড়েন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। বপন করেন বাঙালীর মুক্তির স্বপ্নবীজ। যার সমগ্র জীবন কেটেছে লড়াই-সংগ্রামে। বাঙালির শোষণ মুক্তির এই স্বপ্নদ্রষ্টা অধিকার, আর দাবিদাওয়া আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে গিয়ে শাসকদের রোষানলে পড়েছেন, কারাগারেই কাটিয়েছেন প্রায় ১৪ বছর।
দীর্ঘ এই সংগ্রামী জীবনে ৭ই মার্চের কালজয়ী ভাষণ যেমন আছে তেমনি আছে ইতিহাসখ্যাত আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার মত ঘটনাও। যে মামলায় কারাগারে নেয়া হয়েছিলো শেখ মুজিবকে। প্রতিবাদে ন্যায় আর ন্যায্যতার পক্ষে গর্জে ওঠেছিলো পুরো বাংলা। শেখ মুজিবের মুক্তির দাবিতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শ্রমিক, কৃষক, সর্বস্তরের জনতা মে এসেছিলো রাজপথে। শেষ পর্যন্ত তাঁর মুক্তির দাবিতে গণআন্দোলন রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। পাকিস্তানি জান্তার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পান বাঙালির আবেগ, আকাঙ্খা আর মুক্তির সংগ্রামকে এক সুতোয় গাঁথা নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।
শেখ মুজিবের হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগের মধ্যসারির এক নেতা ১৯৬৮ সালে প্রিয় নেতাকে ’বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেবার চিন্তা প্রথম লিখিত আকারে প্রকাশ করেন। পরে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে সদ্যমুক্ত শেখ মুজিবুর রহমানকে আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভায় গণসম্বর্ধনা দেওয়া হয়। সেই সভায় ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে সভার সভাপতি তোফায়েল আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
শেখ মুজিবকে দেয়া এই উপাধি একসময় তাঁর মূল নামকে ছাড়িয়ে যায়। হয়ে ওঠেন সবার প্রিয় বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় ভাবে নানান ঐতিহাসিক দলিলেও নামের সাথে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করা হয় উপাধিটি। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এই উপাধি অর্জনের সুবর্নজয়ন্তিতে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের পাশাপাশি দুই দিনের কর্মসূচি পালন করছে জাতির জনকের নিজ হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগ।
সুত্র : কালের কণ্ঠ
]]>